ঢাকা, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের প্রথম সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধ প্রশিক্ষণকেন্দ্র সিলেটে

দেশের দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর অংশ হিসেবে সিলেটে চালু করা হয়েছে দেশের প্রথম ‘সীমান্ত স্কুল অব সারভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’।


মঙ্গলবার সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উদ্বোধনের পর তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় আধুনিক ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শনী ও মহড়াও প্রত্যক্ষ করেন তিনি।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের যেসব দুর্গম এলাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে জনবল দিয়ে নিয়মিত নজরদারি করা কঠিন, সেসব এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। বিশেষ করে নাইট ভিশন ও থার্মাল ইমেজিং সুবিধাসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।


তিনি বলেন, আধুনিক এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং মানব পাচারের মতো আন্তসীমান্ত অপরাধের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে ড্রোন পরিচালনা এবং ডিজিটাল নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ বিজিবি সদস্য তৈরি করা হবে। ধীরে ধীরে সীমান্তের বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি), বিজিবির সদর দপ্তর এবং আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকেও সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে।


বিজিবির জন্য দেশে ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ড্রোন অ্যাসেম্বল ও তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।


ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণ করে দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের একটি অংশ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সব ধরনের উন্নত ড্রোন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে আরও অত্যাধুনিক ড্রোন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলাতেও ড্রোনের ব্যবহার বাড়ানোর কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং উদ্ধার তৎপরতায় ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কার্যক্রম বিজিবি সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।


তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনা করে বেসামরিক নাগরিকদেরও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ড্রোন পরিচালনা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হতে পারে।


তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা হবে, অন্যদিকে দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার তৎপরতা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগানো হবে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page